দক্ষিণ পূর্ব

জামায়াত এমপি নজরুলের ভিডিওকাণ্ডে যা জানা গেল

Riayad
Riayad
প্রকাশ : ২২ জুলাই ২০২৬
পঠিত :
জামায়াত এমপি নজরুলের ভিডিওকাণ্ডে যা জানা গেল

ছবি সংগৃহীত

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া সাতক্ষীরা-৪ আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য (এমপি) গাজী নজরুল ইসলামের একটি ব্যক্তিগত ভিডিও ঘিরে নতুন নতুন তথ্য ও পাল্টাপাল্টি দাবি সামনে এসেছে। ভিডিওটি প্রকাশের পর এমপি গাজী নজরুল ইসলাম, তার পরিবারের সদস্য এবং সংশ্লিষ্ট কয়েকজন ব্যক্তি ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্য দিয়েছেন। তবে ঘটনাটির অনেক বিষয় এখনো স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

 

জানা যায়, গত ২০ জুলাই রাতে ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে এমপি গাজী নজরুল ইসলাম ও এক তরুণীর একটি অন্তরঙ্গ ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওটি প্রকাশের পর এমপি নজরুল ইসলাম দাবি করেন, এটি গত ১৩ জুলাই রাজধানীর মগবাজারের একটি অফিসে ধারণ করা হয়েছিল এবং এটি ফাঁসের পেছনে তার সাবেক গাড়িচালক ও ব্যক্তিগত সহকারী ওবায়দুল্লাহ জড়িত।

 

এদিকে প্রধানমন্ত্রী বরাবর লেখা একটি আবেদনপত্রে ওবায়দুল্লাহ, যার প্রকৃত নাম ওবায়দুর রহমান বলে উল্লেখ করা হয়েছে, দাবি করেন যে ১৩ জুলাই এমপি গাজী নজরুল ইসলাম এক তরুণীকে নিয়ে মগবাজারের একটি বাসায় যান এবং সেখানে অবস্থানকালে গোপনে ভিডিও ধারণ করা হয়। আবেদনপত্রে ওই তরুণীর নাম উল্লেখ না থাকলেও পরে বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, তিনি মরিয়ম খাতুন।

 

মরিয়ম খাতুনের বাবা মো. মাসুম বিল্লাহ দাবি করেছেন, চলতি বছরের ১৭ জুন তার মেয়ের সঙ্গে এমপি গাজী নজরুল ইসলামের বিয়ে হয়েছে। একই তথ্য এমপির প্রথম স্ত্রী মাকসুদা ইসলামও নিশ্চিত করেছেন বলে জানা গেছে।

 

ভিডিও প্রকাশের পর দেওয়া এক লিখিত বিবৃতিতে এমপি নজরুল ইসলাম বলেন, ১৩ জুলাই তিনি তার প্রথম স্ত্রী মাকসুদা ইসলাম এবং দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মকে নিয়ে মগবাজারে শ্বশুরের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে যান। সেখানে অবস্থানকালে কয়েকজন ব্যক্তি কক্ষে ঢুকে তাদের জিম্মি করে টাকা আদায় ও পরবর্তীতে আরও অর্থ দাবি করেন। তিনি অভিযোগ করেন, এ সময় তার দ্বিতীয় স্ত্রীর মামা গোপনে তাদের ব্যক্তিগত মুহূর্তের ভিডিও ধারণ করে পরে তা সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেন।

 

পরবর্তীতে সামাজিক মাধ্যমে আরও একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে কয়েকজন ব্যক্তিকে ওই কক্ষে প্রবেশ করে এমপি ও মরিয়মকে বিভিন্ন প্রশ্ন করতে দেখা যায়। ভিডিওতে চাকরির প্রলোভনে ওই নারীকে সেখানে আনা হয়েছিল কি না—এমন প্রশ্নও করতে শোনা যায়। ভিডিওতে মরিয়ম খাতুনকে বেশিরভাগ সময় নীরব থাকতে দেখা যায়। আর এক পর্যায়ে এমপি নজরুল ইসলামকে বলতে শোনা যায়, "ওর আব্বা বলছিল চাকরি দেওয়া যায়।"

 

ভিডিওতে এমপির পরিচয়পত্র (সংসদ সদস্য কার্ড) দেখা যাওয়ায় এটি চলতি বছরের নির্বাচনের পর ধারণ করা হয়েছে বলে বিভিন্ন মহলে আলোচনা শুরু হয়। তবে ভিডিও ধারণ, সম্পাদনা বা প্রচারের নেপথ্যে কারা রয়েছে, সে বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ হয়নি।

 

ভাইরাল হওয়া প্রথম ভিডিওতে ২০২৩ সালের ১ জুলাই তারিখ প্রদর্শিত হওয়ায় শুরুতে ভিডিওটির সময়কাল নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়। পরে আরেকটি ভিডিও প্রকাশের পর অনেকেই দাবি করেন, ভিডিওটি আসলে ২০২৬ সালের জুলাই মাসেই ধারণ করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কোনো তদন্ত সংস্থার আনুষ্ঠানিক মতামত এখনো পাওয়া যায়নি।

 

এ ঘটনায় এমপি গাজী নজরুল ইসলামের প্রথম স্ত্রী মাকসুদা ইসলাম একটি ভিডিও বার্তায় তার স্বামীর বিরুদ্ধে অপপ্রচারের অভিযোগ তুলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান।

 

অন্যদিকে ভিডিও ফাঁস, চাঁদাবাজি ও ব্ল্যাকমেইলের অভিযোগে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন এমপি গাজী নজরুল ইসলাম।

 

এ ঘটনায় বিভিন্ন পক্ষের পরস্পরবিরোধী বক্তব্য সামনে এলেও ভিডিও ধারণ, প্রচার এবং এর পেছনের প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনে এখনো কোনো সংস্থার আনুষ্ঠানিক তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ হয়নি। ফলে অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগের অনেক বিষয়ই এখনো যাচাইয়ের অপেক্ষায় রয়েছে।

আরএইচ/দক্ষিণপূর্ব 

নিউজলেটার

সর্বশেষ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে সাবস্ক্রাইব করুন।