চট্টগ্রামের ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়নে ‘ইজ অব ডুয়িং বিজনেস’ বাড়ানো এবং ‘কস্ট অব ডুয়িং বিজনেস’ কমাতে কাজ করছে দি চিটাগাং চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি। একই সঙ্গে ব্যবসায়ীদের নীতিগত সহায়তা, সমস্যা সমাধান এবং সরকারি বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরিতেও ভূমিকা রাখছে চেম্বার।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) নগরের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে যুক্তরাজ্যভিত্তিক বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান ইন্টারটেকের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক সৌজন্য সাক্ষাতে এসব কথা বলেন চিটাগাং চেম্বারের সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক।
সাক্ষাৎ অনুষ্ঠানে চেম্বারের সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. আমজাদ হোসেন চৌধুরী, সহ-সভাপতি মোহাম্মদ মসিউল আলম স্বপন, সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি এম এ ছালাম, পরিচালক আসাদ ইফতেখার, ইন্টারটেকের দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক রিজিওনাল ম্যানেজিং ডিরেক্টর অজয় কাপুর, বাংলাদেশের কান্ট্রি ম্যানেজিং ডিরেক্টর নিয়ামুল হাসান, কান্ট্রি হেড অব সেলস অ্যান্ড সিআরএম আলিজা সুলতান, চট্টগ্রাম অঞ্চলের হেড অব সেলস রফিক আহমেদ এবং বিজিএমইএর সাবেক পরিচালক খন্দকার বেলায়েত হোসেন উপস্থিত ছিলেন।
চেম্বার সভাপতি বলেন, শতবর্ষী প্রতিষ্ঠান হিসেবে চিটাগাং চেম্বার দেশের ব্যবসা ও শিল্প খাতের উন্নয়নে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে যাচ্ছে। ব্যবসায়ীদের যেকোনো নীতিগত সহায়তা দিতে সরকার ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে চেম্বার। পাশাপাশি বিভিন্ন সমস্যা ও প্রতিবন্ধকতা দূর করতে নিয়মিত অ্যাডভোকেসি কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরের অটোমেশন কার্যক্রমে চেম্বারের ধারাবাহিক উদ্যোগ, তদবির ও নীতিগত সমর্থনের ফলে পণ্য খালাসের ক্ষেত্রে কাস্টমসের প্রক্রিয়া ৪২ ধাপ থেকে কমে ৬ ধাপে নেমে এসেছে। এতে সময় ও ব্যয় দুটোই কমেছে। ব্যবসায়ীদের কার্যক্রম আরও সহজ হয়েছে এবং দেশের বাণিজ্যিক সক্ষমতাও বৃদ্ধি পেয়েছে।
আমিরুল হক আরও বলেন, ভবিষ্যতেও চট্টগ্রাম বন্দরসহ অবকাঠামোগত উন্নয়ন প্রকল্পে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের (পিপিপি) ভিত্তিতে কাজ করতে চায় চেম্বার।
চেম্বারের সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি এম এ ছালাম বলেন, প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই চিটাগাং চেম্বার ব্যবসায়ী সমাজের স্বার্থ রক্ষায় কাজ করে আসছে। একই সঙ্গে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং শিল্পায়নের প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এই ধারা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
সাক্ষাৎকালে ইন্টারটেকের দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক রিজিওনাল ম্যানেজিং ডিরেক্টর অজয় কাপুর বলেন, প্রায় ১৩০ বছরের পুরোনো প্রতিষ্ঠান ইন্টারটেক বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মাননিয়ন্ত্রণ, পরীক্ষণ, পরিদর্শন ও প্রযুক্তিগত সেবা প্রদান করছে। বাংলাদেশের বাজারকে প্রতিষ্ঠানটির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও কৌশলগত বাজার হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তিনি জানান, ভবিষ্যতে বাংলাদেশে বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী ইন্টারটেক। বিশেষ করে প্রযুক্তিনির্ভর সেবা, মাননিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এবং ব্যবসা সহজীকরণ সংশ্লিষ্ট খাতে বিনিয়োগ ও সহযোগিতার সুযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
বৈঠকে উভয় পক্ষ বাংলাদেশে বিনিয়োগের সম্ভাবনা, ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ উন্নয়ন, আন্তর্জাতিক মাননিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এবং শিল্প খাতের সক্ষমতা বৃদ্ধির বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মতবিনিময় করেন। ব্যবসা ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়।
আরএইচ