চট্টগ্রাম নগরের বন্দর এলাকার নিমতলা উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক মো. আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ের তহবিল আত্মসাতের অভিযোগ উত্থাপনের জেরে একাধিক ফৌজদারি মামলায় হয়রানির শিকার হয়েছেন বলে দাবি করেছেন সিনিয়র আয়কর আইনজীবী মো. মাহবুবুর রহমান। তাঁর দাবি, ওই অভিযোগ প্রকাশ্যে আনার পর তাঁকে তিনটি পৃথক মামলায় জড়ানো হলেও পরবর্তীতে দুটি মামলায় তিনি খালাস পেয়েছেন এবং অপর একটি মামলা উচ্চ আদালতে বাতিল (কোয়াশমেন্ট) হয়েছে।
বৃহস্পতিবার এক লিখিত বক্তব্যে মাহবুবুর রহমান এসব তথ্য তুলে ধরেন।
লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান, নিমতলা উচ্চ বিদ্যালয়ের তৎকালীন প্রধান শিক্ষক মো. আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ের জেনারেল ফান্ড, এফডিআর, গ্র্যাচুইটি ফান্ডসহ বিভিন্ন হিসাব থেকে ২০১৯-২০, ২০২০-২১ এবং ২০২১-২২ অর্থবছরে মোট ১ কোটি ৪৯ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি তিনি লিখিতভাবে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানকে অবহিত করেন।
অভিযোগের পর শিক্ষা বোর্ড তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। তদন্ত শেষে ২০২৩ সালের ২২ অক্টোবর জমা দেওয়া প্রতিবেদনে আর্থিক অনিয়মসহ মোট ১৩টি অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায় বলে উল্লেখ করা হয়। তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে প্রথমে কারণ দর্শানোর নোটিশ এবং পরে মো. আবুল কালাম আজাদকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। পরবর্তীতে সন্তোষজনক জবাব দিতে ব্যর্থ হওয়ায় তাঁকে প্রধান শিক্ষকের পদ থেকে চাকরিচ্যুত করা হয় বলে দাবি করেন মাহবুবুর রহমান।
তিনি বলেন, করোনাকালীন সময়ে অস্থায়ীভাবে নিমতলা উচ্চ বিদ্যালয়ে দায়িত্ব পালনকালে বিভিন্ন আর্থিক অসংগতি তাঁর নজরে আসে। পরে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও সদস্যদের অবহিত করে তিনি শিক্ষা বোর্ডে লিখিত অভিযোগ করেন।
মাহবুবুর রহমানের অভিযোগ, ওই ঘটনার পর সাবেক প্রধান শিক্ষক রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে একের পর এক মামলা দায়ের করেন। ২০২২ সালে চট্টগ্রামের বিভিন্ন আদালতে সিআর ১৯৯/২০২২, জিআর ২২৯/২০২২ এবং এডিএম কোর্টে ১০০৬/২০২২ নম্বরের তিনটি ফৌজদারি মামলা করা হয়।
আদালত-সংশ্লিষ্ট নথির বরাত দিয়ে তিনি জানান, এডিএম কোর্টের ১০০৬/২০২২ নম্বর মামলাটি ২০২২ সালের ৫ সেপ্টেম্বর খারিজ করে দেওয়া হয়। পরবর্তীতে সিআর ১৯৯/২০২২ নম্বর মামলাটিও আদালত খারিজ করেন। একই ঘটনার সূত্র ধরে দায়ের করা জিআর ২২৯/২০২২ নম্বর মামলাটি উচ্চ আদালত ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৬১(ক) ধারায় বাতিল ঘোষণা করেন।
মাহবুবুর রহমান বলেন, “তদন্তে আমার বিরুদ্ধে কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি। বরং বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি ও শিক্ষা বোর্ডের তদন্তে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। এরপরও আমাকে হয়রানি করার উদ্দেশ্যে একাধিক মামলা করা হয়েছিল।”
তিনি আরও বলেন, প্রকৃত ঘটনা না জেনে বিভিন্ন মহল তাঁর বিরুদ্ধে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছে। আদালতের রায় এবং তদন্ত প্রতিবেদনের তথ্য পর্যালোচনা করলে প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হবে বলেও দাবি করেন তিনি।
তবে এ বিষয়ে অভিযোগের বিষয়ে মো. আবুল কালাম আজাদের বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি ।
আর এইচ