দক্ষিণ পূর্ব

সংস্কারবিহীন নির্বাচন : অনিশ্চিত ভবিষ্যতের পথে বাংলাদেশ

sathi
sathi
প্রকাশ : ১ অক্টোবর ২০২৫
পঠিত :
সংস্কারবিহীন নির্বাচন : অনিশ্চিত ভবিষ্যতের পথে বাংলাদেশ
দীর্ঘ রাজনৈতিক পথপরিক্রমায় বাংলাদেশ আজ এক গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে এসে দাঁড়িয়েছে। আসন্ন জাতীয় নির্বাচন নিয়ে যখন জনমনে প্রত্যাশা ও আগ্রহ বাড়ছে, তখন একই সাথে গভীর উদ্বেগও দানা বাঁধছে। বিশেষ করে, দেশের নির্বাচন ব্যবস্থাসহ প্রয়োজনীয় সংস্কারের আগে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়া, দেশের জন্য এক অনিশ্চিত ও অন্ধকার ভবিষ্যতের দ্বার খুলে দিতে পারে কী না তা নিয়ে সংশয় আছে। নির্বাচন শুধু ভোট প্রদান বা সরকার গঠনের একটি প্রক্রিয়া নয়, এটি গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি। একটি সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন দেশের শাসনব্যবস্থায় জনগণের আস্থা স্থাপন করে এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করে। কিন্তু যখন নির্বাচন প্রক্রিয়া প্রশ্নবিদ্ধ হয়, তখন জনগণের সেই আস্থা ভেঙে যায়, যা গণতন্ত্রকে দুর্বল করে দেয়।

বাংলাদেশে অতীতে দেখা গেছে, নির্বাচনকালীন সরকার এবং নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সমঝোতার অভাব এবং একে অপরের প্রতি আস্থার সংকট নির্বাচনকে এক ধরনের সংঘাতময় পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে, নির্বাচন ব্যবস্থার সংস্কারের দাবি বারবার সামনে এসেছে, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার গঠন, নির্বাচন কমিশনের ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সংলাপের মাধ্যমে একটি গ্রহণযোগ্য কাঠামো তৈরি করা। যদি এই সংস্কারগুলো ছাড়াই কোনো নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়, তবে তার ফলাফল কী হতে পারে?

প্রথমত, এটি জনগণের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভ সৃষ্টি করবে। যদি জনগণ মনে করে যে তাদের ভোট দেওয়ার অধিকার সঠিকভাবে প্রয়োগ হচ্ছে না, তবে তারা পুরো ব্যবস্থার ওপর থেকে আস্থা হারাবে। এর ফলে, রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় জনগণের অংশগ্রহণ কমে যাবে এবং তারা নিজেদেরকে রাজনৈতিকভাবে বিচ্ছিন্ন মনে করবে।

দ্বিতীয়ত, সংস্কারবিহীন নির্বাচন রাজনৈতিক সংকটকে আরও গভীর করবে। যদি কোনো দল নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ তোলে এবং ফলাফল মেনে না নেয়, তবে তা রাজনৈতিক সহিংসতা এবং অস্থিরতার জন্ম দেবে। এই ধরনের সংঘাত দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং সামাজিক স্থিতিশীলতাকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করবে।

তৃতীয়ত, আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হবে। একটি প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচন প্রক্রিয়া আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক এবং সংস্থাগুলোর কাছে দেশের গণতন্ত্রকে দুর্বল প্রমাণ করবে। এর ফলে, বিভিন্ন দেশের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্ক এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাধাগ্রস্ত হতে পারে।

অতএব, এটি স্পষ্ট যে সংস্কারবিহীন নির্বাচন বাংলাদেশের জন্য কোনো ভালো ফলাফল বয়ে আনবে না। এই পরিস্থিতিতে, দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর উচিত সংকীর্ণ রাজনৈতিক স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে জনগণের কল্যাণের কথা ভাবা। একটি গ্রহণযোগ্য ও নিরপেক্ষ নির্বাচন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার জন্য সবার একযোগে কাজ করা অত্যন্ত জরুরি। দেশের গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে এবং একটি শান্তিপূর্ণ ও স্থিতিশীল ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে নির্বাচন ব্যবস্থাসহ অন্তত প্রয়োজনীয় জরুরি সংস্কারসমূহ এখনই সম্পন্ন করা সময়ের দাবি।

জালাল উদ্দিন রুমি 
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক 

নিউজলেটার

সর্বশেষ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে সাবস্ক্রাইব করুন।