দেশে চলমান বৈশ্বিক জ্বালানি বিপর্যয়ের প্রভাব মোকাবেলায় সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। জ্বালানি পরিবহন ও সরবরাহ ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে নৌ পরিবহণ অধিদপ্তর ও চট্টগ্রাম বন্দরের সঙ্গে মিলে যৌথ অভিযান পরিচালনা এবং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করেছে সংস্থাটি।
মঙ্গলবার (৩১ মার্চ ) বিকালে কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, বৈশ্বিক সংকটকে পুঁজি করে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী ইচ্ছাকৃতভাবে জ্বালানি তেলের কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা করছে। তারা তেল সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান থেকে তেল সংগ্রহ করলেও নির্ধারিত স্থানে না নিয়ে চট্টগ্রাম বহিঃনোঙ্গর ও কর্ণফুলী নদীতে বিভিন্ন লাইটার জাহাজে অবৈধভাবে মজুত করছে। এ অবস্থায় গত ১ মার্চ থেকে কোস্ট গার্ড পূর্ব জোন প্রতিদিন বাণিজ্যিক ও লাইটার জাহাজে অভিযান পরিচালনা করে আসছে।
তিনি আরও জানান, দেশের সুনীল অর্থনীতি সচল রাখা এবং সমুদ্র–উপকূলীয় এলাকায় নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা একটি জাতীয় অগ্রাধিকার। বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় জ্বালানি পরিবহন, সরবরাহ ও বিতরণের চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা পর্যালোচনা এবং করণীয় নির্ধারণে কোস্ট গার্ড পূর্ব জোন একটি মতবিনিময় সভার আয়োজন করে।
সভায় পদ্মা অয়েল, মেঘনা পেট্রোলিয়াম, বাংলাদেশ বাংকার সাপ্লাই অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ মেরিন ফিশারিজ অ্যাসোসিয়েশন এবং স্ট্যান্ডার্ড এশিয়াটিক অয়েল কোম্পানিসহ জ্বালানি খাতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। তারা বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের প্রভাব, স্থানীয় পর্যায়ের প্রতিফলন এবং সমুদ্র ও নদীপথে জ্বালানি পরিবহন–সরবরাহের চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলোচনা করেন।
প্রতিনিধিরা সঠিকভাবে জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত রাখতে সম্মিলিতভাবে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন এবং ভবিষ্যতেও কোস্ট গার্ডকে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন বলেন, “জনস্বার্থে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে ও কৃত্রিম সংকট প্রতিরোধে কোস্ট গার্ডের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।”
আরএইচ